১৯৪১সালে পাকিস্তানী মউদুদীর হাতে জামাতের গোড়াপত্তনের পর থেকেই ইসলামের বিকৃত রূপ মউদুদীবাদ বাংলাকে গ্রাস করে আসছে জামাতে ইসলামী সহ সকল ইসলামী দলগুলির সন্মিলিত প্রয়াসে। ১৯৫০সাল থেকে পাকিস্তানকে এক রাখার মানসে দুই পাকিস্তানের ভাষিক ও জাতিগত পার্থক্যকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করা হয়। আরএ কারনেই ইয়াহিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারকে জামাত সমর্থন দেয়, একাত্তরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গনহত্যা কে সমর্থন ও সহায়তা দেয়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাঙ্গালী নারীদের ধর্ষনকে বৈধতা দেয়, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবিদের হত্যায় সক্রিয় সহায়তা করে। যুদ্ধপরবর্তীকালেশেখ মুজিব জামাতকে অবৈধ ঘোষণা করলেও জামাতী কর্মীরা বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্রমাগত কাজ করতে থাকে। ৭২সালে জামাত বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সরাসরী অস্বীকৃতিজানিয়ে বিবৃতি দেয়।http://islamshanti.wordpress.com/2013/03/08/1972-right-to-exist/দুঃখজনক হলো এতো অপরাধের পরেও এদের ক্ষমা করে দেয়া হয় যখন শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়মেজর জিয়ার ষড়যন্ত্রে। এই মেজর জিয়ার হাত ধরেই বাংলাদেশে জামাত তার শেকড় ভয়াবহভাবেপ্রোথিত করে।  ২০০১=২০০৬ এ খালেদা জিয়ার জোটসরকার জামাতকে একই সুযোগ আরেকবার দেয়। যার কুফল আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি।

জামাতছাড়াও হিজবুত তাহরীর কাছাকাছি উদ্দেশ্যে কাজ করছে বাংলাদেশে। দু্টি দলই নাস্তিক ও প্রাক্তন-মুসলিমদেরব্যাপারে সমান নির্দয়। ইসলাম মোতাবেক এদের জন্য একটাই শাস্তি তাদের মতে, আর তা হলোনৃশংস মৃত্যু। জিহাদের ব্যাপারেও তারা মোটামুটি একমত। বান্দা এবং তাদের আল্লার মাঝেভেঙ্গে যাওয়া একান্ত সম্পর্ক পুনঃসংযোগে এবং ইসলামের আলো ছড়ানোতে বাধা দানকারী জাহেলীসমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাগুলিকে ধ্বংস করা এদের লক্ষ্য। মউদুদীবাদের বর্নিত জাহেলিয়ারসাথে বর্তমান বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা মিলে যাওয়ায় হিজবুত তাহরীর এবং জামাতদুই পক্ষই একত্রে কাজ করছে একে ইসলামীকরনে। ‘বিশ্ব ইসলামী রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নলালন করে তারা কাজ করে চলেছে সে লক্ষ্য অর্জনে। অধুনা ইরাক, সিরিয়ায় আইসিসের অপকর্মতাদের নতুন শক্তি যোগাবে বলে আশংকা করা যাচ্ছে। এ বছরের শুরুর দিকে আলকায়েদার নেতাজাওয়াহিরি বাংলাদেশের ইসলামিক দলগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন সকল নাস্তিক মুরতাদকে হত্যাকরে বাংলাদেশে ইসলাম রক্ষা করতে। http://www.notun-din.com/?p=11750

এরামনে করে একটি মউদুদীবাদের সফল হতে হলে, ক্ষমতায় থাকাটা খুব একটা জরুরী নয়। সম্প্রদায়ভিত্তিক রাজনীতি করা জামাত তার মত ও কর্মকান্ডের পক্ষে একটি রাষ্ট্রের ভেতরে প্রবহমান সকল মতামতকে এমনভাবে নিয়ে আসে, যাতে বাকি সকল মত ও পথ সেই মতামতকে এক ধরনের গ্রাহ্য করতে শুরু করে, আর এভাবেই জামাতের মউদুদীবাদ সফল। জামাতেরঅস্তিত্বই জামাতের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য।

আজকেরবাংলাদেশে যেকোন সেকুলার আন্দোলনকে ইসলামের সাথে সাংঘার্ষিক প্রমান করতে সফল হয়েছে জামাতের অধীনে ইসলামিক মেশিনারী। গত বছরের শাহবাগ আন্দোলনকে

সফলভাবে অনৈস্লামিক প্রমাণে তাদের পত্রিকা ও মিডিয়াগুলি সফল হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও তাদের পক্ষ হয়েছিলো এই অপকর্মে।

দুশ্চিন্তার বিষয় হলো বাংলাদেশও পাকিস্তানের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ স্তরে অনুপ্রবেশ করবার অতীব দক্ষতা দেখছি আমরা তাদের কাছ থেকে। সংসদে তাদের খুব বেশি আসন না থাকলেও সফলতার সাথে তারা সরকারের ভেতরে ইনফিলট্রেট বা অনুপ্রবেশ করতে পেরেছে।

বাংলাদেশ সরকারেরমূল কাঠামো, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, সেনাবাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থার একটা বড়ো অংশে তাদের লোক ঢুকে বসে আছে।

১.২০০১-২০০৬ এর চারদলীয় জোটের শাসনামলে অন্ততঃ পাঁচজন সচিব জামাতের পরিচয়পত্র নিয়েই কর্মকান্ড চালিয়ে গেছে। এখন এদের সংখ্যা কতো, কেউ জানেন?

২.শতকরা চল্লিশ ভাগ সরকারী কর্মকর্তা জামাতী মনোভাবের এবং জামাতের উদ্দেশ্য পুরনে তৎপর। (এটা ২০১২ সালের পরিসংখ্যান, আর বর্তমানে?)

৩.খালেদা জিয়ার জোট সরকারের আমলে জামাতের হাতে বিপুল পরিমান কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় যাদের জামাত / শিবির অতীত বিদ্যমান। (এদের ওপর কেউ কি নজর রাখছে?)

৪.জামাত শিবিরের প্রচুর ক্যডার নিয়োগ দেয়া হয়েছে পুলিসের সাব ইন্সপেক্টর পদে (পুলিশের ভেতরেই যদি এরা থাকে, তাহলে ক্ষতি কতদুর হতে পারে, একবার চিন্তা করেছেন?)

৫.সেনা বাহিনীর শতকরা দশ ভাগ জওয়ান জামাতী ধ্যানধারনায় বিশ্বাস করে। (এদের ওপর কেউ কি নজর রাখছেন?)

রেফারেন্স:

১.”What Was Shahbag Up Against? Radical Islam in Bangladesh” – NadinMurshid, Arup Sanyal.

২.Kumar, A (2012): “Return from the Precipice: Bangladesh’s Fight againstTerrorism”,

a-001 a-010 a-011 screen-shot-2013-03-08-at-5-55-32-pm

(132)