২০০৬ সালে সামুয়ার ব্লগের পত্তনের সময় থেকে বাংলা ব্লগস্ফিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত ও উত্তপ্ত বিষয় হলো ‌’ধর্ম’। বাংলাদেশের একটা বড়ো অংশের বিশ্বাস ইসলাম হওয়ায়, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সবচেয়ে বেশি লোক খুঁজে পাওয়া যেতো সে সময়টায়। কিন্তু উত্তাপের সৃষ্টি কিন্তু সে জন্যে হয় নাই। 

আমি যখন প্রথম ব্লগে আসি, তখন জামাতী এবং শিবিরের কিছু প্রপাগান্ডা চোখে পড়ায় মেজাজ খিঁচড়ে গেলে তাদের কথাবার্তা আরো মনযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করি। এটা বুঝতে পারি, যে তারা সেই প্রপাগান্ডায় ইসলামকে বেশ সফলভাবেই ব্যবহার করে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধ, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধ ইস্যুগুলিতে জামাতকে রক্ষার জন্য, তাদের নেতৃত্বকে বাঁচাতে শিবিরে বদমাইশগুলোর প্রায়শই ধর্মকে ঢাল এবং অস্ত্র, দুই রূপেই দেখা যাচ্ছিলো।

আমি জাতে নাস্তিক, তাই ধর্মের এই অপব্যবহার চোখের সামনে দেখে মনে হলো এই চুতিয়াগুলি ধর্মীয় ছেন্টিমেন্ট নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। খেলা বন্ধ করবার সবচে ভালো উপায় হলো, খেলার য্ন্ত্র, মানে বলখানা, মানে ধর্মের হাওয়া ফুটুস করে দেয়া।

একটা বিষয় আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম, এই পর্যায়ে আমার মতোই চিন্তা করেন, এমন অনেকেই জড়ো হয়েছেন, যে শিবির মুহম্মদ নামের চরিত্রটিকে উপুর্যপরি ব্যবহার করছে। তার নামের শেষে ছাল্লাবাল্লা ব্রাকেট করে কেন লাগানো হচ্ছে না, তা নিয়ে শিবিরের সে কি কান্নাকাটি।

তো, বাকিটা তো ইতিহাস।

সেই মুহম্মদের চরিত্র নিয়ে আজকের বাংলাদেশে খুব বেশি লোকের সংশয় নাই, যে লোকটা একটা যুদ্ধবাজ নেতা ছিলো, মোটামুটি লুইস টাইপের ছিলো, ভন্ড ছিলো, আল্লা নামের একটা চরিত্রের উৎপাদন করেছে, এপিলেপ্সিকে আয়াত নাযিল হচ্ছে বলে চালিয়ে দিয়েছে, পেডোফাইল হয়ে পড়েছিলো শেষ বয়সে, অভিসারে গিয়ে সহচরদের কাছে ধরা খেয়ে মেরাজের কাহিনী উদ্ভাবন করেছে। কবিয়াল বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে কবিতা করতে শিখে কোরানের আয়াত গুলিকে কোবতের মতো করে ছেড়েছে, কদম আলী ডাক্তারের মতো ডিগ্রী ছাড়া ডাক্তারী করতে গিয়ে আজকের দুনিয়ায় হাসির পাত্র হয়েছে।

এতো কিছু বের হয়েছে পুরোটাই মুহম্মদ সম্পর্কে গবেষণা করতে গিয়ে, তার ছাহাবীদের মুখে বয়ানের ওপর ভিত্তি করেই। শিবিরের বদমাইশগুলো যদি মুহম্মদকে মহামানব হিসেবে প্রচার করে, তার স্পেশাল সন্মান দাবি না করতো, তাহলে নাস্তিকেরাও তার ইতিহাস মন্থন করে এসব ঢি ঢি পড়ার মতো কাহিনী খুঁজতে যেতো না।

কিন্তু মোহাম্মদ নিয়ে এই যে অতি বাড়াবাড়ি, তার সাথে ইসলাম ধর্মের গঠনের একটা গুরুত্বপূর্ণ যোগ আছে। যেকোন ‘কাল্ট’ (cult) ঘেঁটে দেখবেন, সেখানে একজন বিশিষ্ট পুরুষ থাকে, যে কিনা ইশ্বরের সাথে যোগাযোগের একটা মাধ্যম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে, এবং সর্বোপরি এবং অবধারিতভাবে প্রচুর নারী সঙ্গ উপভোগ করে। একেবারে ব্লুপ্রিন্টের মতো। ইসলামও একটা কাল্ট।

তো, পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে, পুরুষদের আচরন সবাই এক একজন মিনি মোহম্মদ হতে চায়। তারা বিত্তশালী হতে চায়, একাধিক নারী পরিগ্রহ করতে চায়, নিজের নারীকে নিয়ন্ত্রন করতে চায়, এবং সর্বোপরি ভিন্নমতকে অত্যাচার করে দমন করতে চায়। প্রতিটি পাকা মুসলমানই একেকটা মিনি মুহম্মদ, এমনই ইসলামের গঠন।

তো, সভ্যতা এর সাথে যায় না। সভ্য পৃথিবীতে মানবতা বলে, মানুষ সমান। নারী পুরুষে ভেদাভেদ শরীরের গঠনে, আরো কোথাও নয়। অন্ততঃ সভ্যতার যন্ত্রগুলি, রাষ্ট্র, সমাজ কাউকে বেশি বা কম সুবিধা দেবে না। সকলের কথা বলার অধিকার থাকবে, তাতে কেউ কেউ ‘আহত’ হলেও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হবে না। কেউ মুহম্মদকে পেডো মোও বলে ডাক দিলে, আহতবাদীরা গিয়ে তার গলা ‘কেটে’ ফেলবার বাড়াবাড়ি করবে না।

ইসলাম আর সভ্যতা এক সাথে যায় না। মুক্তিযুদ্ধে ইসলামিক রাষ্ট্র পাকিস্তান গনহত্যা করেছিলো আমরা যথেষ্ট পরিমান মুসলমান ছিলাম না, এই অযুহাতে। যতো যাই বলুন, নারীদের ধর্ষন করা হয়েছে বেশি করে ‌’পায়েন্দা মুসলমান’ জন্ম দেবার জন্যে। শান্তিকমিটি গঠন করেছে পায়েন্দা জামাত সমর্থক লোকজন, ইসলাম রক্ষার উদ্দেশ্যেই।

ইসলামকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসা হয়েছে। পুরো বিশ্বজুড়ে যেখানেই বাঙালী গেছে, ইসলাম ব্যবহার করেই তাদের একত্র করে রাখা হয়েছে বাংগালী বস্তি (ghetto) গুলিতে। পরে অবশ্য তারা বাঙালীত্ব বাদ দিয়ে হয়ে পড়েছে পুরোপুরি মুসলমান। জামাতী মউদুদীবাদ, হিজবুত তাহরীরের ‘এক উম্মাহ’ ধারনার বশবর্তী হয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো সকল বাঙালীকে উৎসাহিত করেছে তাদের সংস্কৃতি বর্জন করতে।

পুরো বিশ্বে আজ তাই বাঙালী বাংলার চর্চা করে না। যেখানেই একুশে ফেব্রুয়ারী, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হতে দেখি, তাতে ধুঁকে ধুঁকে বাঙালীত্ব ধরে রাখা কিছু বাংলাদেশীকে দেখি আমরা একই রকম করে গোল টেবিল জাতীয় আলোচনা করতে। বাঙলীত্বকে এখন শুধুই এই জনগোষ্ঠীর স্মৃতিতে বেঁচে আছে, বাস্তবে তাদের অবয়বে, তাদের জীবন চলছে জামায়াতে চর্চিত ইসলামের বিকৃতি, মউদুদীবাদে।

আওয়ামী লীগের শেখ মুজিব সাতই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন, গ্রেপ্তার হবার আগে একটা ঘোষণা দিয়ে তিনি হয়ে গেলে বাংলাদেশের জাতির জনক। কিন্তু বাস্তবে এই শেখ মুজিবই বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে রেহাই দিয়ে ও আই সি’‌র সদস্য বানিয়ে নিজের জন্য কবর খুঁড়েছিলেন। পাকিস্তান পন্থী অধ্যুষিত আমলাতন্ত্রকে কেটে ফেলে না দিয়ে মুশতাকের পরামর্শে জামাতকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটা রাস্তা তৈরি করেছিলেন, যার কুফল আমরা আজ ভোগ করছি।

(182)